বিষয়বস্তুতে যান বিষয়বস্তুতে যান
ক্রিকেট আলোচনা
কৌশলগত গোপন তথ্য

এলবিডব্লিউ বোঝার আগে এই বিশ্লেষণ পড়ুন

এলবিডব্লিউ বা “লেগ বিফোর উইকেট” হয় যখন ব্যাটসম্যানের শরীরের কোনো অংশে বল লাগে এবং আম্পায়ারের বিচারে বলটি ব্যাটে না লাগলে উইকেটে আঘাত করত। ক্রিকেটের আইন নির্ধারণ করে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব বা এমসিসি...

২৭ অক্টো, ২০২৬ 5 min read উচ্চ-স্টেক বিশ্লেষণ
এলবিডব্লিউ বোঝার আগে এই বিশ্লেষণ পড়ুন

এলবিডব্লিউ বোঝার আগে এই বিশ্লেষণ পড়ুন

এলবিডব্লিউ বা “লেগ বিফোর উইকেট” হয় যখন ব্যাটসম্যানের শরীরের কোনো অংশে বল লাগে এবং আম্পায়ারের বিচারে বলটি ব্যাটে না লাগলে উইকেটে আঘাত করত। ক্রিকেটের আইন নির্ধারণ করে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব বা এমসিসি, আর আন্তর্জাতিক ম্যাচে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনায় আইসিসির ডিআরএস ব্যবহৃত হয়। এলবিডব্লিউর জন্য সাধারণত চারটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচিত হয়: বলটি বৈধ ডেলিভারি কি না, বলের পিচিং কোথায়, আঘাতের স্থান উইকেটের সামনে কি না, এবং বলটি স্টাম্পে লাগত কি না। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলেও এলবিডব্লিউ হতে পারে, যদি ব্যাটসম্যান শট খেলার চেষ্টা করেন। তবে ব্যাটে আগে লাগলে আউট নয়, আর নো-বল হলে এলবিডব্লিউ দেওয়া যায় না। তাই সিদ্ধান্ত বোঝার সেরা উপায় হলো বলের পিচিং, ইমপ্যাক্ট ও ভবিষ্যৎ গতিপথ—এই তিন ধাপ আলাদা করে দেখা।

Wisdom of Athena · Free demo

A cricket umpire raising one finger during an LBW appeal at a packed international stadium

ক্রিকেট আলোচনা-তে নিয়মটি বোঝার সময় একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা দরকার: এলবিডব্লিউ “শুধু প্যাডে বল লাগলেই” হয় না। বরং বলের লাইন, ব্যাটসম্যানের শট, স্টাম্পের অবস্থান এবং বলের সম্ভাব্য গতিপথ একসঙ্গে বিচার করা হয়। প্রচলিত ব্যাখ্যাগুলো অনেক সময় এতটাই সরল করে বলা হয় যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রমগুলো বাদ পড়ে যায়; আর সেখানেই মাঠের বিতর্ক শুরু হয়। ক্রিকেটের মৌলিক নিয়ম প্রথমে এমসিসির আইন ৩৬-এর কাঠামো ধরুন, তারপর ডিআরএসের তিনটি ধাপ মিলিয়ে দেখুন। এতে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলেও সেটি কোন যুক্তিতে এসেছে, তা বোঝা যায়। আইসিসির আন্তর্জাতিক ম্যাচ-সংক্রান্ত নিয়মেও এই একই মৌলিক কাঠামো ব্যবহৃত হয়, যদিও প্রযুক্তি ও সিদ্ধান্ত-পর্যালোচনার প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতা অনুযায়ী বদলাতে পারে। এখন প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো ভাঙা যাক।

আরও পরিষ্কার উদাহরণ ও ম্যাচ বিশ্লেষণ দেখতে নিচের তথ্যটি অনুসরণ করতে পারেন।

আরও জানুন

মিথ ১: প্যাডে লাগলেই এলবিডব্লিউ—এটা কি সত্য?

না, প্যাডে বল লাগা এলবিডব্লিউর মাত্র একটি অংশ; বলের পিচিং, ইমপ্যাক্ট, স্টাম্পে লাগার সম্ভাবনা এবং ব্যাটে আগে স্পর্শ—সবই যাচাই করতে হয়। এই চারটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ না হলে ব্যাটসম্যান নট-আউট থাকেন, যদিও বলটি প্যাডে জোরে আঘাত করে।

এলবিডব্লিউর প্রথম শর্ত হলো বলটি নো-বল না হওয়া। এরপর দেখা হয় বলটি ব্যাটসম্যানের শরীরের কোন অংশে আঘাত করেছে এবং সেই অংশটি উইকেটের সামনে ছিল কি না। কেবল হাতের অংশকে সাধারণত শরীরের অংশ হিসেবে ধরা হয় না, কিন্তু হাঁটু, পা, উরু বা শরীরের অন্য অংশ বিবেচনায় আসে। “শরীরের সামনে” কথাটিও সম্পূর্ণ নির্ভুল নয়; আইন বলের ইমপ্যাক্ট পয়েন্ট এবং ব্যাটসম্যানের অবস্থানকে নির্দিষ্ট কাঠামোয় বিচার করে। ব্যাটে আগে বল লাগলে পরে প্যাডে আঘাত করলেও এলবিডব্লিউ নয়। আল্ট্রাএজ বা স্নিকোমিটার কখনও ব্যাটে স্পর্শের প্রশ্নে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু প্রতিটি ঘরোয়া ম্যাচে এই প্রযুক্তি থাকে না। MCC Laws of Cricket আইন ৩৬-এ এই মূল নীতিগুলো বিস্তারিতভাবে দেওয়া আছে।

প্রথমে বলের বৈধতা, তারপর ব্যাটে স্পর্শ, শেষে শরীরের অবস্থান—এই ক্রমে ঘটনাটি বিশ্লেষণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।

  • নো-বল হলে এলবিডব্লিউ নয়।
  • ব্যাটে আগে লাগলে এলবিডব্লিউ নয়।
  • বল স্টাম্পে লাগত না হলে এলবিডব্লিউ নয়।
  • ইমপ্যাক্টের অবস্থান নিয়মের শর্ত পূরণ না করলে এলবিডব্লিউ নয়।

মিথ ২: অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করলে এলবিডব্লিউ হয় না—এটি কি আংশিক সত্য?

অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল সাধারণত এলবিডব্লিউ নয়, যদি ব্যাটসম্যান শট না খেলার অবস্থায় থাকেন; কিন্তু তিনি ব্যাট দিয়ে শট খেলার চেষ্টা করলে একই বল এলবিডব্লিউ হতে পারে। তাই “অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ মানেই নট-আউট” বলা অসম্পূর্ণ এবং অনেক ক্ষেত্রে ভুল।

এই নিয়মটি আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম বড় বিভ্রান্তি। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের অফ স্টাম্পের বাইরে বল পিচ করে প্যাডে লাগলে আম্পায়ার সরাসরি আঙুল তুলতে পারেন না, যদি ব্যাটসম্যান কোনো শটের চেষ্টা না করেন। কিন্তু ব্যাটসম্যান যদি ড্রাইভ, কাট, সুইপ বা অন্য কোনো শট খেলতে এগিয়ে যান, তখন আইনের ব্যতিক্রম কার্যকর হতে পারে। এখানে ব্যাটসম্যান সত্যিই শট খেলতে চেয়েছিলেন কি না, সেটিও আম্পায়ারের বিচারাধীন; শুধু ব্যাট সামান্য নামালেই সব সময় “শটের চেষ্টা” প্রমাণিত হয় না। এমসিসি এই শর্তকে ব্যাটসম্যানের ইচ্ছা ও শটের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত করে। আইসিসি ডিআরএসে বল-ট্র্যাকিং দেখালেও খেলোয়াড়ের শটের চেষ্টা সম্পর্কিত মাঠের পর্যবেক্ষণ সম্পূর্ণ যান্ত্রিক নয়। এই সূক্ষ্মতা না বুঝেই অনেক দর্শক “খারাপ আম্পায়ারিং” বলে ফেলেন।

Side-on view of a right-handed batter struck on the pad outside off stump during a tense Test match

একটি ছোট উদাহরণ নিন: বল অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করল, ব্যাটসম্যান ব্যাট নামিয়ে ডিফেন্স করতে গেলেন, কিন্তু বল প্যাডে আঘাত করল এবং লেগ স্টাম্পে লাগত। শটের চেষ্টা থাকলে আউটের সম্ভাবনা তৈরি হয়; শটের চেষ্টা না থাকলে সাধারণত হয় না। ডিআরএস কীভাবে কাজ করে এই পার্থক্যটি টেস্ট ক্রিকেট, একদিনের ক্রিকেট ও টি-টোয়েন্টি—সব ফরম্যাটেই গুরুত্বপূর্ণ, যদিও ম্যাচের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা আলাদা হতে পারে। “অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ”কে তাই চূড়ান্ত উত্তর না ধরে কেবল একটি প্রাথমিক তথ্য হিসেবে নিন।

মিথ ৩: বল লেগ স্টাম্পের বাইরে লাগলেও এলবিডব্লিউ হয়—এটি কি সম্পূর্ণ মিথ্যা?

হ্যাঁ, বলের ইমপ্যাক্ট যদি লেগ স্টাম্পের বাইরে হয়, সাধারণত এলবিডব্লিউ দেওয়া যায় না; তবে ব্যাটসম্যান শট খেলার চেষ্টা করেছিলেন কি না, সেই ব্যতিক্রম এখানে প্রযোজ্য নয়। লেগ স্টাম্পের বাইরে ইমপ্যাক্টের ক্ষেত্রে আইন সাধারণত ব্যাটসম্যানকে সুরক্ষা দেয়, কারণ বলের লাইনকে উইকেটের সঙ্গে ন্যায্যভাবে যুক্ত করা যায় না।

এখানে “বল কোথায় পিচ করেছে” এবং “শরীরে কোথায় লেগেছে”—দুটি আলাদা প্রশ্ন। বল মিডল স্টাম্পে পিচ করে লেগ স্টাম্পের বাইরে প্যাডে লাগতে পারে; আবার বল লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে সোজা স্টাম্পের দিকে আসতে পারে। প্রথম ক্ষেত্রে ইমপ্যাক্টের অবস্থান বিচার্য, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে পিচিংয়ের অবস্থানই সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে। ডিআরএসের বল-ট্র্যাকিং সাধারণত বলের পিচিং, ইমপ্যাক্ট এবং উইকেট-হিটিং দেখায়; এর মধ্যে ইমপ্যাক্ট অঞ্চল “অ্যাম্পায়ার্স কল” হলে মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে। প্রযুক্তির এই সীমা অনেক দর্শক ভুলভাবে শতভাগ নিশ্চিত ফল হিসেবে দেখেন। International Cricket Council ডিআরএস ও আন্তর্জাতিক খেলার নিয়ম সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক কাঠামো প্রকাশ করে, তবে নির্দিষ্ট টুর্নামেন্টের খেলার শর্ত আলাদা করে দেখা উচিত।

“অ্যাম্পায়ার্স কল” মানে প্রযুক্তি অকার্যকর নয়; বরং পরিমাপের অনিশ্চয়তার মধ্যে মাঠের সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বলের ঘর্ষণ, পিচের বাউন্স, ব্যাটসম্যানের ভঙ্গি এবং ক্যামেরার সীমিত কোণ—সবকিছুর কারণে কঠিন সিদ্ধান্তে শতভাগ নিশ্চয়তা দাবি করা বাস্তবসম্মত নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরাট কোহলি, জো রুট বা বাবর আজমের মতো ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রেও একই আইন প্রযোজ্য; নাম বড় হলেই নিয়ম বদলে যায় না। তবে দর্শকের চোখে “বল স্টাম্পে লাগত” মনে হওয়া এবং আইনের সব শর্ত পূরণ হওয়া এক জিনিস নয়।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিশ্লেষণটি হলো:

  1. বল বৈধ ছিল কি না দেখুন।
  2. ব্যাটে আগে স্পর্শ হয়েছে কি না যাচাই করুন।
  3. বল কোথায় পিচ করেছে নির্ধারণ করুন।
  4. ইমপ্যাক্টের অঞ্চল বুঝুন।
  5. বল স্টাম্পে লাগত কি না দেখুন।
  6. প্রয়োজনে অ্যাম্পায়ার্স কলের সীমা মনে রাখুন।

এলবিডব্লিউর ক্ষেত্রে আসলে কোন পদ্ধতি কাজ করে?

এলবিডব্লিউ বোঝার কার্যকর পদ্ধতি হলো “পিচিং–ইমপ্যাক্ট–উইকেট” এই তিন ধাপের সঙ্গে নো-বল ও ব্যাটে প্রথম স্পর্শের পরীক্ষা যোগ করা। এই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করলে একই বল নিয়ে আবেগের বদলে আইনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করা যায়।

প্রথমে ডেলিভারিটি বৈধ কি না দেখুন; নো-বল হলে আলোচনা সেখানেই শেষ। দ্বিতীয় ধাপে ব্যাটে আগে স্পর্শ হয়েছে কি না বোঝার চেষ্টা করুন, কারণ প্যাডে পরের আঘাত তখন এলবিডব্লিউ তৈরি করবে না। তৃতীয় ধাপে বলের পিচিং চিহ্নিত করুন—উইকেটের লাইনে, অফ স্টাম্পের বাইরে, নাকি লেগ স্টাম্পের বাইরে। চতুর্থ ধাপে ইমপ্যাক্ট দেখুন এবং ব্যাটসম্যান শট খেলতে চেয়েছিলেন কি না বিবেচনা করুন। শেষ ধাপে বলের সম্ভাব্য গতিপথ দেখুন: স্টাম্পের কত অংশে আঘাত করত, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্রমটি টেলিভিশন রিপ্লে, ডিআরএস গ্রাফিক এবং মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত—তিন ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায়। ক্রিকেটে আম্পায়ারের সংকেত অনভিজ্ঞ দর্শক সাধারণত শেষ ছবিটি দেখে রায় দেন; অভিজ্ঞ বিশ্লেষণ পুরো ঘটনাটিকে সময়ক্রমে দেখে।

আইন ৩৬-এর বাস্তব প্রয়োগে নিচের চেকলিস্টটি দ্রুত কাজে লাগে:

  • প্রথম ধাপ: নো-বল কি না।
  • দ্বিতীয় ধাপ: ব্যাটে আগে বল লেগেছে কি না।
  • তৃতীয় ধাপ: বলের পিচিং অঞ্চল।
  • চতুর্থ ধাপ: ইমপ্যাক্টের অবস্থান ও শটের চেষ্টা।
  • পঞ্চম ধাপ: বলের স্টাম্প-হিটিং সম্ভাবনা।
  • ষষ্ঠ ধাপ: অ্যাম্পায়ার্স কল প্রযোজ্য কি না।

এই পদ্ধতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা ধরা পড়ে: এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্ত কেবল ফলাফলের প্রশ্ন নয়, প্রক্রিয়ারও প্রশ্ন। মাঠের আম্পায়ার যদি নট-আউট দেন এবং ডিআরএসে ইমপ্যাক্ট অ্যাম্পায়ার্স কল হয়, সিদ্ধান্ত বদলাবে না; কিন্তু বল স্টাম্পে লাগার অংশ পরিষ্কারভাবে নিশ্চিত হলে রিভিউ সফল হতে পারে। আইসিসি পুরুষদের আন্তর্জাতিক ম্যাচে সাধারণত রিভিউ ব্যবস্থার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ও দলীয় সুযোগ নির্ধারণ করে, যা প্রতিযোগিতার প্লেয়িং কন্ডিশনে উল্লেখ থাকে। তাই “রিভিউ নিলেই সিদ্ধান্ত বদলাবে”—এই ধারণা বাস্তবে টেকে না।

এই ধাপগুলো ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দ্রুত প্রয়োগ করতে চাইলে বিস্তারিত নিয়মটি সংরক্ষণ করতে পারেন।

আরও জানুন

Television replay showing ball-tracking lines, impact zone, and projected stumps during an international cricket review

এলবিডব্লিউতে কোন বিষয়গুলো উপেক্ষা করা উচিত?

উপেক্ষা করা উচিত এমন প্রধান বিষয় হলো শুধু শব্দের জোর, ব্যাটসম্যানের খ্যাতি বা দর্শকের প্রথম প্রতিক্রিয়া; এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তে এগুলোর কোনো আইনগত মূল্য নেই। একইভাবে “প্যাডে জোরে লেগেছে”, “বল সোজা যাচ্ছিল” বা “ব্যাটসম্যান নড়েননি”—এই একক পর্যবেক্ষণ কখনও পূর্ণ সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়।

অনেক সময় রিপ্লেতে দেখা যায় বল প্যাডে আঘাত করেছে, কিন্তু আসলে ছোট্ট একটি ব্যাট-স্পর্শ ঘটেছে। আবার বল সোজা দেখালেও ইমপ্যাক্ট লেগ স্টাম্পের বাইরে হতে পারে। ব্যাটসম্যানের পা ক্রিজের ভেতরে ছিল কি না, সেটিও সরাসরি এলবিডব্লিউর মূল শর্ত নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো বলের আঘাতের স্থান এবং বলের সম্ভাব্য পথ। একইভাবে বল স্টাম্পে লাগত কি না বোঝার সময় হক-আই বা অন্য বল-ট্র্যাকিং প্রযুক্তির পূর্বাভাসকে বাস্তব আঘাত হিসেবে ধরবেন না। প্রযুক্তি একটি মডেল, সরাসরি ভবিষ্যৎ দেখা নয়; এজন্যই সীমান্তবর্তী ইমপ্যাক্টে অ্যাম্পায়ার্স কল থাকে। “প্রযুক্তি সব সময় নির্ভুল”—এই দাবিও অতিরঞ্জিত, আবার “প্রযুক্তি কিছুই বোঝে না”—এটিও সমান ভুল। ক্রিকেটে ডিআরএসের বিতর্ক ভারসাম্যপূর্ণ পাঠ হলো, প্রযুক্তি সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে, কিন্তু আইন ও ম্যাচ-প্রক্রিয়ার বাইরে নয়।

এলবিডব্লিউ বিশ্লেষণে বিশেষভাবে এড়িয়ে চলুন:

  • ব্যাটসম্যানের জনপ্রিয়তা দেখে পক্ষপাত করা।
  • শুধু প্যাডে আঘাত দেখেই আউট বলা।
  • বলের পিচিং ও ইমপ্যাক্ট গুলিয়ে ফেলা।
  • অ্যাম্পায়ার্স কলকে “ভুল প্রযুক্তি” বলা।
  • নো-বল যাচাই না করে রিভিউ নিয়ে তর্ক করা।
  • অন্য ফরম্যাটের প্লেয়িং কন্ডিশন সব ম্যাচে প্রয়োগ করা।

ক্রিকেট আলোচনা-র ম্যাচ পর্যালোচনায় তাই এলবিডব্লিউ নিয়ে সঠিক ভাষা হওয়া উচিত: “আইনের কোন শর্ত পূরণ হয়েছে?”—“দর্শকের চোখে আউট মনে হয়েছে কি না?” নয়। এভাবে বিশ্লেষণ করলে উত্তেজনা কমে না; বরং বিতর্কের আসল কারণটি আরও স্পষ্ট হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে দর্শকরা ভিন্ন সম্প্রচার-গ্রাফিক দেখলেও এমসিসির মূল আইন একই ভিত্তি দেয়। ভিন্নতা সাধারণত আসে প্রযুক্তির প্রাপ্যতা, রিভিউ নীতি এবং টুর্নামেন্টের নির্দিষ্ট শর্ত থেকে।

এখন পুরো নিয়মকে এক বাক্যে ধরলে: বৈধ বল, ব্যাটে আগে স্পর্শ নয়, সঠিক পিচিং ও ইমপ্যাক্ট, এবং স্টাম্পে লাগার সম্ভাবনা—সব মিললেই এলবিডব্লিউ।

উপসংহার: এলবিডব্লিউ বোঝার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র

এলবিডব্লিউর সঠিক ব্যাখ্যা পেতে “পিচিং–ইমপ্যাক্ট–উইকেট” সূত্রটি মনে রাখুন, তারপর নো-বল ও ব্যাটে প্রথম স্পর্শের শর্ত পরীক্ষা করুন। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল, লেগ স্টাম্পের বাইরে ইমপ্যাক্ট, শট খেলার চেষ্টা এবং অ্যাম্পায়ার্স কল—এই চারটি ক্ষেত্রেই সাধারণ দর্শকের ভুল সবচেয়ে বেশি হয়। এমসিসি আইন ৩৬, আইসিসির ডিআরএস প্রক্রিয়া এবং ম্যাচের প্লেয়িং কন্ডিশন একসঙ্গে পড়লে সিদ্ধান্তের কাঠামো পরিষ্কার হয়। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রথমে আবেগ নয়, ডেলিভারির ক্রম অনুসরণ করুন: বল বৈধ কি না, ব্যাটে আগে লেগেছে কি না, কোথায় পিচ করেছে, কোথায় লেগেছে, এবং স্টাম্পে লাগত কি না। এই পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর মিললেই অধিকাংশ এলবিডব্লিউ বিতর্কের সমাধান করা যায়। ক্রিকেট আলোচনা-র নিয়মভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুসরণ করলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হলেও তার আইনগত ভিত্তি বোঝা সহজ হবে।

আপনার পরের ম্যাচ বিশ্লেষণকে আরও নির্ভুল করতে এই নির্দেশিকাটি ব্যবহার করুন।

আরও জানুন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: এলবিডব্লিউ কী?

উত্তর: এলবিডব্লিউ হলো এমন আউট, যেখানে বৈধ বল ব্যাটে আগে না লেগে ব্যাটসম্যানের শরীরে আঘাত করে এবং বলটি স্টাম্পে লাগত বলে আম্পায়ার মনে করেন। এর সঙ্গে বলের পিচিং, ইমপ্যাক্ট এবং ব্যাটসম্যান শট খেলেছিলেন কি না—এই বিষয়গুলো জড়িত। নো-বল হলে এলবিডব্লিউ দেওয়া যায় না। এমসিসির আইন ৩৬ এই আউটের মূল কাঠামো নির্ধারণ করে।

প্রশ্ন: ক্রিকেটে এলবিডব্লিউ কীভাবে হয়?

উত্তর: প্রথমে নিশ্চিত করতে হয় বলটি নো-বল নয় এবং ব্যাটে আগে লাগেনি। এরপর বল কোথায় পিচ করেছে, শরীরের কোথায় লেগেছে, ব্যাটসম্যান শট খেলতে চেয়েছিলেন কি না এবং বল স্টাম্পে লাগত কি না—এই চারটি বিষয় যাচাই করা হয়। সব প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দিতে পারেন। ডিআরএস থাকলে রিভিউতে বল-ট্র্যাকিং ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন: এলবিডব্লিউ ও বোল্ডের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: বোল্ডে বল সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করে বেল ফেলে, কিন্তু এলবিডব্লিউতে শরীর বলকে থামায় এবং বলটি স্টাম্পে লাগত বলে সিদ্ধান্ত হয়। বোল্ডের ক্ষেত্রে প্যাড বা শরীরের অবস্থান বিবেচ্য নয়। এলবিডব্লিউতে বলের পিচিং, ইমপ্যাক্ট, ব্যাটে আগে স্পর্শ এবং শটের চেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ। তাই একই ডেলিভারি বোল্ড বা এলবিডব্লিউ—দুটির একটিই হতে পারে, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

প্রশ্ন: অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল কি এলবিডব্লিউ হতে পারে?

উত্তর: পারে, যদি ব্যাটসম্যান শট খেলার চেষ্টা করেন এবং এলবিডব্লিউর অন্যান্য শর্ত পূরণ হয়। শট না খেলার অবস্থায় অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল সাধারণত এলবিডব্লিউ হয় না। আম্পায়ার ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং অ্যাকশন ও বলের গতিপথ একসঙ্গে বিবেচনা করেন। শুধু বল অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করেছে বলেই সব পরিস্থিতিতে নট-আউট বলা ঠিক নয়।

প্রশ্ন: বল লেগ স্টাম্পের বাইরে লাগলে এলবিডব্লিউ কেন হয় না?

উত্তর: বলের ইমপ্যাক্ট লেগ স্টাম্পের বাইরে হলে সাধারণত এলবিডব্লিউ দেওয়া যায় না, কারণ আইন এই অঞ্চলে ব্যাটসম্যানকে সুরক্ষা দেয়। তবে বল কোথায় পিচ করেছে এবং শরীরে কোথায় লেগেছে—এই দুটি আলাদা বিষয়, তাই পুরো ডেলিভারি দেখা দরকার। টেলিভিশন গ্রাফিকে বল স্টাম্পের দিকে বাঁকতে দেখা গেলেও ইমপ্যাক্টের আইনগত অবস্থান সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে। ডিআরএসের অ্যাম্পায়ার্স কলও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

প্রশ্ন: এলবিডব্লিউর জন্য কি ডিআরএস প্রয়োজন?

উত্তর: না, এলবিডব্লিউ দেওয়ার জন্য ডিআরএস প্রয়োজন হয় না; মাঠের আম্পায়ার নিজেই সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। ডিআরএস থাকলে দল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার আবেদন করতে পারে। রিভিউতে সাধারণত নো-বল, ব্যাটে স্পর্শ, বলের পিচিং, ইমপ্যাক্ট এবং স্টাম্প-হিটিং পরীক্ষা করা হয়। প্রতিযোগিতার প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী রিভিউয়ের সংখ্যা ও সময়সীমা বদলাতে পারে।

প্রশ্ন: অ্যাম্পায়ার্স কল হলে এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্ত কীভাবে থাকে?

উত্তর: অ্যাম্পায়ার্স কল হলে মাঠের আম্পায়ারের মূল সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, কারণ প্রযুক্তি ফলাফলকে সীমান্তবর্তী হিসেবে দেখেছে। এটি পুরো রিভিউ ব্যর্থ হওয়া নয়; বরং বলের ইমপ্যাক্ট বা স্টাম্প-হিটিং অঞ্চলে পূর্বাভাসের অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই মাঠে আউট দেওয়া হলে আউটই থাকে, আর নট-আউট দেওয়া হলে নট-আউট থাকে। ডিআরএস ব্যবহারের আগে এই সীমাটি জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক অনেক কমে।

ক্রিকেট আলোচনা • Neon Protocol • System Active

সম্পর্কিত নিবন্ধ